- লিঙ্ক পান
- X
- ইমেল
- অন্যান্য অ্যাপ
- লিঙ্ক পান
- X
- ইমেল
- অন্যান্য অ্যাপ
আসল নাম এডসন আরান্তেস দো নাসিমেন্তো। ডাক নাম পেলে।’ গল্পটি ছিল সাও
পেলে, যিনি ফুটবল বিশ্বে "ফুটবলের সম্রাট" হিসেবে পরিচিত, ছিলেন এক মহা ক্রীড়াব্যক্তিত্ব। তার জন্ম ১৯৪০ সালের ২৩ অক্টোবর, ব্রাজিলের ত্রেস কোরাচয়ে, মিনাস জেরাইসে। পেলের আসল নাম ছিল এদসোঁ আরাঁচ দু নাসিমেঁতু, কিন্তু তিনি পৃথিবীজুড়ে "পেলে" নামেই পরিচিত।প্রাথমিক জীবন
পেলের পরিবার ছিল অত্যন্ত দরিদ্র। তার বাবা, দন্দিনহো, নিজেও ফুটবলার ছিলেন, কিন্তু তার পরিবারের জীবিকা নির্বাহ করার জন্য ফুটবল খেলার পাশাপাশি অন্য কাজও করতে হতো। পেলে ছোটবেলায় একটি আসল ফুটবল কিনতে পারতেন না, তাই তিনি মোজা, সংবাদপত্র বা আঙ্গুর দিয়ে বল বানিয়ে খেলা শুরু করেন। তার ফুটবল জীবনের সূচনা সাও পাওলো রাজ্যের বাউরুতে, যেখানে তিনি কিছু অপেশাদার ফুটবল দলের হয়ে খেলেন।
ক্লাব ক্যারিয়ার
১৯৫৬ সালে পেলে পেশাদার ফুটবল ক্লাব সান্তোসে যোগ দেন। সান্তোসের কোচ লুলা তার খেলা দেখে মুগ্ধ হন এবং পেলে একেবারে নতুন এক দিগন্তে পৌঁছান। ১৫ বছর বয়সে পেলের প্রথম ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়, এবং এই ম্যাচে তিনি নিজের প্রথম গোলটি করেন। এই মুহূর্ত থেকেই তার উত্থান শুরু হয়। সান্তোস ক্লাবে পেলে একাধিক শিরোপা জয় করেন এবং তাকে বিশ্বমানের ফুটবলার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন।
আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার
পেলে ১৯৫৭ সালে ব্রাজিল জাতীয় দলের হয়ে প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেন, এবং এর পরবর্তী বছর ১৯৫৮ সালে, মাত্র ১৭ বছর বয়সে, তিনি প্রথম ফিফা বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করেন। ওই বিশ্বকাপে পেলে তিনটি গোল করেন এবং ব্রাজিলকে চ্যাম্পিয়ন করেন। এই বিজয়ের ফলে পেলে আন্তর্জাতিক ফুটবল জগতের তারকা হয়ে ওঠেন।
১৯৬২, ১৯৬৬ এবং ১৯৭০ সালেও তিনি বিশ্বকাপ জয় করেন, এবং এই সফলতার মাধ্যমে তিনি পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ ফুটবলার হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন। ১৯৭০ সালে ৩০ বছর বয়সে পেলে ব্রাজিলের হয়ে বিশ্বকাপ জয়ের পর নিজেকে "ফুটবলের রাজা" হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন।
ব্যক্তিগত জীবন
পেলে জীবনে তিনটি বিয়ে করেছেন এবং তার ৭টি সন্তান রয়েছে। তিনি ১৯৬৬ সালে রোসেমেরি ডস রেইস চোলবিকে বিয়ে করেছিলেন, কিন্তু ১৯৮২ সালে তাদের বিবাহ বিচ্ছেদ হয়। পরবর্তীতে তিনি আরও দুই বার বিয়ে করেন এবং একাধিক সম্পর্কেও জড়ান।
মৃত্যু
পেলে ২০২২ সালের ২৯ ডিসেম্বর ৮২ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যু বিশ্বের ফুটবলপ্রেমীদের জন্য এক বিরাট শূন্যতা সৃষ্টি করেছে। কোলন ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর তিনি মারা যান।
পেলের ক্যারিয়ার, তাঁর অবদান এবং ফুটবল ইতিহাসে তার স্থান চিরকাল অমলিন থাকবে।পাওলোর এক ছোট্ট ছেলের কিংবদন্তি ফুটবলার হয়ে ওঠার। তাঁর সংগ্রামের গল্প। পরিবারের অভাব মেটাতে দোকানে কাজ করা,
কি জুতা পরিষ্কার করার সেই সংগ্রাম। ছোটবেলায় এত কিছু করেও তিনি ফুটবলার হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন। প্রবল ইচ্ছাশক্তি আর সাধনায় মাত্র ১৬ বছর বয়সেই তিনি নিজের স্বপ্ন পূরণ করলেন। ফুটবলার হিসেবে ছড়িয়ে পড়ল তাঁর খ্যাতি। সেখান থেকেই ব্রাজিলের হলুদ–নীল জার্সি, বিশ্বকাপ জেতা, কিংবদন্তি হয়ে ওঠা।

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন